প্রকাশিত:
২৫ জানুয়ারী, ২০২৬

তীব্র শীত, বরফবৃষ্টি ও ভারী তুষারপাতের প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রের বিস্তীর্ণ এলাকায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। আবহাওয়াজনিত দুর্যোগের কারণে দেশটির অন্তত ১৭টি অঙ্গরাজ্য ও ডিস্ট্রিক্ট অব কলম্বিয়ায় জরুরি অবস্থা জারি করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। বাতিল হচ্ছে একের পর এক ফ্লাইট।
টেক্সাস থেকে নিউ ইংল্যান্ড পর্যন্ত প্রায় ২,০০০ মাইল এলাকাজুড়ে বিস্তৃত এই শক্তিশালী শীতকালীন ঝড়ের প্রভাবে ১৭টি অঙ্গরাজ্য ও ডিস্ট্রিক্ট অব কলম্বিয়ায় (ওয়াশিংটন ডি.সি.) জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। তুষারপাত ও বরফবৃষ্টির কারণে গত ৪৮ ঘণ্টায় দেশজুড়ে ১৩,০০০-এর বেশি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে, যা যাতায়াত ব্যবস্থায় নজিরবিহীন বিপর্যয় সৃষ্টি করেছে।
শুধু শনিবার বিকেল পর্যন্ত ৩ হাজার ৭০০টির বেশি ফ্লাইট বাতিল, আর ২ হাজার ১৭৫টি বিলম্বিত হয়েছে। রোববার প্রায় ৮ হাজার ৯০টি ফ্লাইট বাতিল হওয়ার কথা রয়েছে। আর ৬৯৩টি ফ্লাইট বিলম্বিত হতে পারে বলে জানানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ৩৭টি অঙ্গরাজ্যে প্রায় ১৯ কোটি মানুষ শীতকালীন আবহাওয়া-সতর্কতার আওতায় রয়েছেন।
আবহাওয়াবিদদের মতে, এই ঝড়টি অত্যন্ত ‘বিপজ্জনক’ ও ‘প্রাণঘাতী’। ঝড়ের তীব্রতা বিবেচনায় নিউইয়র্ক, নিউ জার্সি, ভার্জিনিয়া, টেক্সাস, নর্থ ক্যারোলাইনা, এবং মেরিল্যান্ডসহ ১৭টি রাজ্যে জরুরি অবস্থা জারি করেছেন সংশ্লিষ্ট গভর্নররা। পরিস্থিতি মোকাবিলায় অনেক রাজ্যে ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েন করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিস সতর্ক করে বলেছে, মধ্য ও পূর্বাঞ্চলের বড় অংশজুড়ে বিপজ্জনক শৈত্যপ্রবাহ বিস্তার লাভ করেছে। অনেক স্থানে বাতাসের শীতলতা (উইন্ড চিল) মাইনাস ২০ থেকে ৩০ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত নেমে যেতে পারে। তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় ১০ থেকে ৪০ ডিগ্রি ফারেনহাইট কম রয়েছে।
জোহারান মামদানি বলেন, স্থানীয় সময় শনিবার মধ্যরাতের দিকে তুষারপাত শুরু হওয়ার কথা। রোববার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি তুষারপাত হতে পারে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে জানিয়েছেন, তিনি টেনেসি, জর্জিয়া, নর্থ ক্যারোলাইনা, সাউথ ক্যারোলাইনা, মেরিল্যান্ড, আরকানসাস, কেন্টাকি, লুইজিয়ানা, মিসিসিপি, ইন্ডিয়ানা, ভার্জিনিয়া ও ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া—এই ১২টি অঙ্গরাজ্যের জন্য ফেডারেল জরুরি অবস্থা ঘোষণার অনুমোদন দিয়েছেন।
ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ‘ফ্লাইটঅ্যাওয়্যার’-এর তথ্যমতে, এই সপ্তাহান্ত ছিল আকাশপথের জন্য সবচেয়ে দুঃসহ। শনি ও রবিবার মিলিয়ে প্রায় ১৩,০০০ ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। ডালাস-ফোর্ট ওয়ার্থ, শিকাগো ও নিউইয়র্কের বিমানবন্দরগুলো ছিল সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। হাজার হাজার যাত্রী বিমানবন্দরে আটকা পড়ে চরম ভোগান্তিতে দিন কাটাচ্ছেন।
জাতীয় আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ১৯ কোটি মানুষ বর্তমানে কোনো না কোনো আবহাওয়া সতর্কতার অধীনে রয়েছে। অনেক অঞ্চলে তাপমাত্রা হিমাঙ্কের অনেক নিচে নেমে গেছে, যা কয়েক দশকের রেকর্ড ভেঙে দিতে পারে। মিনেসোটা ও ডাকোটায় তাপমাত্রা হিমাঙ্কের নিচে মাইনাস ৩০ থেকে ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত অনুভূত হচ্ছে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় জরুরি ব্যবস্থাপনা সংস্থা (FEMA) পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাজ্য প্রশাসনের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করছে। তিনি এক বার্তায় নাগরিকদের অপ্রয়োজনে ঘর থেকে বের না হওয়ার এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, এই তুষারপাত সোমবার পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। এরপর তাপমাত্রা আরও কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা জমে থাকা তুষার অপসারণের কাজকে আরও কঠিন করে তুলবে।